বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসী (বাংলা সাবটাইটেল)

510

বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসী। প্রায় ৬৩৬ বছর মুসলিমদের দ্বারা শাসিত উসমানী/তুর্কি খিলাফতের অন্তর্গত পূর্ব আনাতোলিয়ার বিৎলিস প্রদেশের নুরস নামক এক কুর্দি গ্রামে ১৮৭৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মির্জা আফিন্দী আর মাতা নুরিয়া হানিমের সাত সন্তানের মাঝে সাঈদ ছিলেন চতুর্থ। জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রাখায় মোল্লা ফাত্হুল্লাহ আফিন্দী নামক তৎকালীন এক বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্ব তাঁকে ‘বদিউজ্জামান’ বা ‘যুগের বিস্ময়’ নামে অভিহিত করেন। আর তখন থেকেই তিনি ‘বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসী’ নামে সমধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেন। নয়/দশ বছর বয়স থেকেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন শুরু করেন। দর্শন, ধর্মতত্ত¡সহ বিভিন্ন বিষয়ে পান্ডিত্য অর্জন করেন। মোল্লা আমীন আফিন্দী, মাদ্রাসা, মীর হাসান ওয়ালী মাদ্রাসা বায়েজীদ মাদ্রাসাসহ বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা লাভ করেন। তাঁর প্রখর ধীশক্তি আর যুক্তিপূর্ণ কথা তৎকালীন পÐিতদেরকে যেমন অভিভ‚ত করেছে তেমনি সাধারণ মানুষকে এক নতুন জীবনবোধের সন্ধান দিয়েছে। কিছুকাল পর শায়খ আইউব আনসারীর মেহমান হিসেবে মারদিন এলাকায় যান। এখানে অবস্থানকালেই ‘ইয়াং তুর্কস’ আন্দোলনের সাথে পরিচয় ঘটে এবং এর অন্যতম নেতা নামিক কামালের তাত্তি¡ক লেখাগুলো স্বাধীনচেতা বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসী’র চিন্তার জগতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে। ফলে ‘ইয়াং তুর্কস’ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন এবং আন্দোলনের আদর্শিক অবস্থানকে আরো বেগবান করার লক্ষ্যে ১৮৯২ সাল থেকেই প্রকাশ্য রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়া শুরু করেন। অবশ্যম্ভাবীভাবে মারদিনের গভর্ণর তাঁকে গ্রেফতার করেন এবং মারদিন থেকে বহিষ্কার করে পুলিশ প্রহরায় বিৎলিসে পাঠিয়ে দেন।