আল্লাহ এবং পরকালের আবাস্থলের পথে যাত্রা-০৫

1324


১. আশা
তারাই ভাগ্যবান, যারা ধ্বংসাত্মক পথ পরিহার করে
আল্লাহর সন্তুষ্টির মঞ্জিলে পৌছাতে দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করে

এটিই হচ্ছে তাদের পথের ভিত্তি এবং তাদের দলের মৌলিক অনুষঙ্গ। যাতে তারা আধ্যাত্মিকতার ক্ষতির পথ পরিহার করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে ধাবিত হয়। তারা শয়তানের পথ পরিহার করে পরম করুণাময় আল্লাহর ইবাদত বন্দেগীর দিকে মনোনিবেশ করে। তারা জ্বলন্ত আগুনের পথ পরিত্যাগ করে এবং চির শান্তির পথে এগিয়ে যায়। তারা শয়তানি কাজ বাদ দিয়ে ভালো কাজে উৎসাহিত হয়। তারা তাদের মন, জিহ্বা এবং অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সমূহকে মন্দ কাজ করা থেকে বিরত রাখে। এর পরিবর্তে তারা নিজেদেরকে ব্যস্ত রাখে আল্লাহর বিধি-নিষেধ মেনে চলতে এবং প্রশংসনীয় কাজে। তারা উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে নিজেদেরকে সাজিয়ে নেয় এবং সকল নিন্দনীয় কাজ পরিহারের মাধ্যমে
পরিশুদ্ধ করে নেয় ।

২. আন্তরিকতা
যারা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে চলে
এমনসব বিধি-নিষেধ মেনে চলে যার মাধ্যমে ইমান পরিমাপ করা হয়।

প্রকাশ্যে অথবা গোপনে করা ইবাদত বন্দেগীর প্রত্যেকটির বৈধ হওয়ার জন্য পূর্বশর্ত হচ্ছে দুইটি মুলনীতি: আন্তরিকতা এবং সাদৃশ্য । প্রত্যেকটি কাজ যা আল্লাহর মুখোমুখি হওয়ার নিমিত্তে সঙ্ঘটিত হয়না, তা ব্যর্থ এবং যে কাজ আল্লাহর রাসূলের (সাঃ) সুন্নাহর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়, তা বাতিল।(১)

(১) ইমাম ইবনে আল কায়্যিম, আল্লাহ্ তাঁর উপর রহমত বর্ষণ করুন, মাদারিজ আস-সালিকিনে বলেন (২/৬৮): “আল্লাহ বলেন, যিনি সৃষ্টি করেছেন জীবন ও মরণ, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন, কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ।(আল মূলক ৬৭: ২) ফুদায়েল ইবনে আয়াদ (আয়াতটি সম্পর্কে) বলেন, ‘এটিই হচ্ছে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা এবং সবচেয়ে বিশুদ্ধ’। তারা জিজ্ঞাসা করে: হে আবু আলী, সর্বোচ্চ আন্তরিকতা এবং বিশুদ্ধতা কি? তিনি জবাবে বলেন, কোনো কাজ, যা আন্তরকি অথচ সঠিক নয়, তাহলে গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো কাজ যা সঠিক কিন্তু আন্তরিক নয়, তাহলে তাও গ্রহণযোগ্য নয়। যতক্ষণ না এতে আন্তরিকতা এবং সঠিকতার সম্মিলন ঘটে। আন্তরিকতা মানে হচ্ছে তা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর জন্য হবে, আর বিশুদ্ধতা হল তা সুন্নাহর সাথে পুরোপুরিভাবে মিলবে।

কারো ইবাদত বন্দেগী তখনই সঠিক হবে যখন তা আন্তরিকতা এবং সাদৃশ্যকে
সমন্বয় করবে অর্থাৎ কোনো কাজ করার সময় আল্লাহর মুখোমুখী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করা এবং কৃত কর্ম আল্লাহ রাসূলের দেখানো বিধিনিষেধ অনুসারে হতে হবে।(২)

(২) ইবনে আল কাইয়্যিম (র) মাদারিজ আস-সালিকিনে বলেন, অনবরত আল্লাহ্কে অন্বেষণ করার কারণে আপনাকে দেখেই সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে যাওয়া। যারা মানুষের সামনে নিজেকে এমন কিছু নিয়ে উপস্থাপন করে, যা তাঁর মধ্যে নেই, তাহলে সে আল্লাহর কৃপা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ফুদায়েলের ভাষ্যমতে, মানুষের স্বার্থে কোনো কাজ করা হচ্ছে প্রদর্শনেচ্ছা। এমন কাজ করারও শিরকও। আন্তরিকতা তাই, যেখানে আল্লাহ্ তাকে উভয়টিই থেকে রক্ষা করে। আল জুনায়েদ বলেন, আন্তরিকতা আল্লাহ এবং বান্দার মাঝে গোপনীয় বিষয়, যা ফেরেশতারা র্পযন্ত জানতে পারেনা রেকর্ড করার জন্য এবং শয়তানও জানতে পারেনা তাকে বাধাগ্রস্থ করতে এবং বাতাস র্পযন্ত জানেনা তাকে প্রভাবিত করতে। সাহলকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল অহংবোধের উপর সবচেয়ে কঠিন জিনিস কোনটি? জবাবে তিনি বলেছেন, আন্তরিকতা, কারণ এতে অহংবোধের কোনো শেয়ার নেই।
ইবনে আল কাইয়্যিম সাদৃশ্য সম্পর্কে বলেন, আল জুনায়ের বলেছেন, সৃষ্টিতে তাদের সকলের পথগুলো আবদ্ধ। তারা ব্যতিত যারা রাসূলের পদাঙ্ক অনুসরণ করে, তিনি আরো বলেন, যারা কুরআন মনে রাখেনা, হাদীস সংরক্ষণ করেনা, এই পথে অনুসরণ করার উচিৎ নয়। কারণ আমাদের কুরআন এবং হাদীসে সীমাবদ্ধ। আবু সুলাইমান বলেন, প্রকৃতপক্ষে জ্ঞানের একটি কথা আমাদের হৃদয়ে আলোড়িত হয় যদি তা হয় ধর্মীয় কথা, কিন্তু আমি তা গ্রহণ করিনা যতক্ষণ না তা কুরআন ও হাদীস সম্মত হয়।