আল্লাহ এবং পরকালের আবাস্থলের পথে যাত্রা-০৪

1247

ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা বিশ্ব জাহানের প্রভূ মহান আল্লাহর জন্য। মুহাম্মদ (সাঃ), তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবায়ে কেরাম এবং অনুসারীদের উপর আল্লাহ শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন।

আমার কবিতা “আল্লাহ এবং পরকালের আবাস্থলের পথে যাত্রা” সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত অথচ উপকারী মন্তব্যগুলো এর তাৎপর্যকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে এবং যাবতীয় বিষয়াদিকে করে সুস্পষ্ট। কবিতাটিতে আল্লাহর পথে পথিকদের প্রধান গন্তব্যসমূহ নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে, যেগুলো তাদেরকে পরিচালিত করে জান্নাত এবং উত্তম দানশীল প্রভূর নিকটবর্তী হওয়ার দিকে। এমনকি সেগুলো তাদের জন্য নরকের অগ্নি যন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্য রক্ষাকবচ হয় । আমি আল্লাহর নিকট অনুনয়-বিনয় করি তার দয়া-দানশীলতাকে স্মরণ করে, যেন এসকল কাজগুলো একনিষ্ঠভাবে শুধুমাত্র আল্লাহর মুখোমুখী হওয়া এবং তার নিকটবর্তী হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

জাগরণ

এ বিষয়টি আমাদের উপলব্ধি করা প্রয়োজন যে, ইবাদতের উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহর বন্দেগী, তাঁর পরিচিতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করা, তাকে ভালোবাসা, অনুশোচনায় তাঁর দিকে ফিরে যাওয়া এবং এমন পথে প্রবেশ করা যা পৌঁছে দিবে চির শান্তির আবাস্থলের দিকে।

অধিকাংশ মানুষ বিলাসী জীবন যাপনে অভ্যস্ত এবং জাগতিক কামনা-বাসনা ও অভ্যাসের দাস হয়ে আছে। তারা এ বিষয়টিকে মোটেও গুরুত্ব দেয়না, এমনকি এটাকে তাদের মূল ভিত্তি হিসেবে নিতে চেষ্টাও করেনা। অপরদিকে, ইবাদত বন্দেগী বাদ দিয়ে জাগতিক আকাঙ্ক্ষায় বুদ হয়ে থাকে। সময়ের সদ্ব্যবহার না করে অপচয় করে থাকে। যার ফলে তাদের অজ্ঞতায় তারা বিভ্রান্ত হয়; আল্লাহর প্রতি নিবেদিতপ্রাণ হওয়ার পরিবর্তে নিজেদের কুপ্রবৃত্তির দিকে ধাবিত হয়; প্রভুর স্মরণ সম্পর্কে একেবারেই বেখেয়াল থাকে; ধর্মীয় অনুশীলনে অমনোযোগী এবং তাদের অভ্যাসের উন্মত্ত ভালোবাসায় অন্ধভাবে অনুরক্ত হয়ে যায়।

যারা আল্লাহ তা’আলাকে ভুলে গেছে, ফলে আল্লাহ তাদেরকে আত্মভোলা করে দিয়েছেন। তারাই ফাসেকদের অন্তর্ভূক্ত। (আল হাশর ৫৯:১৯)

কতিপয় বিচক্ষণ ও মহৎ লোক ব্যাতিরেকে এই ঘোরতর অবহেলা বা উদাসীনতা ও মহা বিপর্যয়ের বিষয়ে অধিকাংশ মানুষই সতর্ক না। এসকল সত্যপন্থী ব্যক্তিরা অনুধাবন করতে পারে যে, যেসব জিনিসে শুধুমাত্র দুঃখ-দূর্দশা বয়ে আনে, তাতে মেতে থাকায় রয়েছে বিরাট ক্ষতি। তারা ভুলেভরা জিনিসের পরিবর্তে আরো ভালো জিনিসকে গ্রহণ করে; চিরস্থায়ী সুখের জন্য দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সুখকে বিক্রি করে দেয়।

তারা আইনানুগ দায়িত্বসমূহ (ধর্মীয় বিধি-বিধান) কাঁধে বহন করে এবং ইবাদত বন্দেগী করে যতক্ষণ র্পযন্ত না তা তাদের নিকট আনন্দের উৎসে পরিণত হয় এবং তাদের অভ্যাসের অংশ হয়ে যায়, যার মাধ্যমে তারা আরো অগ্রগামী হয়। সুতরাং তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনুন এবং তাদের বৈশিষ্ট্যের আলোকে নিজেদেরকে বৈশিষ্টমন্ডিত করে তুলতে আল্লাহর সাহায্য কামনা করুন।

চলবে……