আলোকবিদ্যাঃ আলোর মৌলিক প্রকৃতি ব্যাখ্যায় মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদান

1769

আলোক বিজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা প্রযুক্তিগুলো আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সেগুলো আমাদের প্রতিদিনের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। শিল্প-বিজ্ঞান থেকে শুরু করে আধুনিক প্রযুক্তিতে আলোক বিজ্ঞানের গবেষনা এবং বিভিন্ন বস্তুর উপর আলোর ভূমিকা এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বিজ্ঞানীদের মধ্যে আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।

২০১৫ সালে ‘কিতাব আল-মানাযির’ বা আলোক বিদ্যাপাঠ বইয়ের ১০০০ বছর পূর্ণ হয়েছে। সাত খন্ডের লিখিত বইটি প্রকাশ করেন ইরাকি বিজ্ঞানী ইবনে আল-হাইথাম যার অগ্রগামী চিন্তাধারাকে মহাবিশ্বের অস্তিত্ত্ব অনুধাবনের ক্ষেত্রে মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

দৃষ্টি, আলো এবং আলোকবিদ্যা সম্বন্ধে বোঝাতে গিয়ে ইবনে আল হাইথাম গ্রীক ব্যক্তিত্ব প্লেটো এবং ইউক্লিডের দেয়া তত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ করেন। আলোর ব্যাপারে তাদের যুক্তি ছিল যে, আমাদের চোখ থেকে যখন আলো কোন বস্তুর উপর পড়ে তখন আমরা ঐ বস্তুকে দেখতে পাই। অপরপক্ষে ইবনে আল হাইথাম এর সঠিক ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন যে, আমরা কোন বস্তুকে তখনই দেখতে পাই যখন আলো কোন বস্তু হতে প্রতিফলিত হয়ে বা সরাসরি দীপ্তিমান বস্তু বা সূর্য থেকে আমাদের চোখে প্রবেশ করে।

তাত্ত্বিক এবং পরীক্ষামূলক উভয় পদ্ধতির সমন্বয়ে তিনি যে গবেষণা পদ্ধতি প্রয়োগ করতেন সেগুলোও তত্ত্ব প্রমাণে অসাধারণ ছিল।

ইবনে আল হাইথাম: আধুনিক আলোকবিদ্যার জনক

  • ইরাকি মুসলিম বিজ্ঞানী ইবনে আল হাইথাম আলোর প্রকৃতি এবং দৃষ্টির ব্যাখ্যায় খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
  • ১১ শতকের এই চিন্তাবিদ এবং তার
    ‘কিতাব আল-মানাযির’ বা আলোক বিদ্যাপাঠ বইটি দৃষ্টি, আলোকবিদ্যা এবং আলো সম্বন্ধে আমাদের বুঝতে সাহায্য করে।
  • “আমাদের চোখ থেকে আলো কোন বস্তুর উপর পড়লে তখন সে বস্তুকে আমরা দেখতে পাই”- প্লেটো এবং ইউক্লিডের এই তত্ত্বকে
    হাইথাম চ্যালেঞ্জ করেন।
  • অপরপক্ষে তিনি বলেন যে, দৃষ্টি হচ্ছে বাইরের কোন দীপ্তিমান বস্তু থেকে আলোকরশ্মির আমাদের চোখে পতিত হওয়া।
  • তার ‘ক্যামেরা অবস্কিউরা’ গাণিতিকভাবে প্রামাণ করে যে আলো সরল পথে পরিভ্রমণ করে যা আলোকচিত্রের মূল ভিত্তি স্থাপন করে।

Science in the Golden Age’ গ্রন্থের প্রথম খন্ডে তাত্ত্বিক পদার্থবিদ জিম আল-খলিলি আলোকবিদ্যার অনেকগুলো আদর্শ ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেন এবং মধ্যযুগের ইসলামী বিশ্বে আলোর বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিসমূহ উদঘাটন করেন।

আল খলিলি ইবনে আল হাইথাম এর বিখ্যাত ‘ক্যামেরা অবস্কিউরা’র পুনঃপরীক্ষার কাজটি করেন এবং অসাধারণ ফলাফল দেখতে পান। তিনি বাগদাদের গনিত ও পদার্থবিদ ইবনে শা’ল এর বিভিন্ন কাজগুলোরও রহস্য উন্মোচন করেন। সাম্প্রতিক আবিষ্কৃত নথি অনুযায়ী জানা যায় যে, তিনি ডাচ জ্যোতির্বিজ্ঞানী উইলব্রর্ড স্নেলিয়াসের জন্মের শত বছর পূর্বেই সঠিক ভাবে ‘স্নেল’ এর প্রতিসরণের নিয়মাবলীর ব্যাখ্যা করেন।

আমরা ইবনে মুয়াজের বিভিন্ন অবদানগুলোর দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পাই তিনি আলোকবিদ্যা এবং জ্যামিতি উভয়ের সম্মিলনের মাধ্যমে বায়ুমন্ডলের উচ্চতা অনুমানের চেষ্টা করেন।

সূত্র: আল-জাজিরা