আল্লাহ এবং পরকালের আবাস্থলের পথে যাত্রা-০১

1120

বইটি সম্পর্কে কিছু কথা

বইটিতে তিনটি দিক বা বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবেঃ এর রচয়িতা, বিষয়বস্তু এবং এর অনুবাদ।

গ্রন্থকার

লেখক আবদ আল রাহমান ইবনে নাসির ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হামাদ আল সাদি, বনু তামীম গোত্রের অধিবাসী। তিনি ১৩০৭ হিজরীর ১২ই মুহাররাম/১৮৮৯ সালে উনাইজাহ শহরে জন্ম গ্রহণ করেন যা সৌদি আরাবিয়া আল কাসিম প্রদেশে অবস্থিত। ছোট বয়সে তিনি ছিলেন অনাথ, ৪ বছর বয়সে মা মারা যান এবং ৭ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন বাবা। তার বড় হামাদ তাকে আদর যত্ন নিয়ে লালন পালন করার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন।

১২ বছর বয়সে শায়েখ আব্দ আল রাহমান কুরআনে হেফজ শেষ করেন। এরপর ধর্মীয় জ্ঞান সম্পর্কে জানার জন্য তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়েন। দেশে অসংখ্যক বিজ্ঞ আলেমদের দ্বীনের কাছে ইলম অর্জন করেন। সেসকল আলেমগণ হলেনঃ

১। শায়েখ ইব্রাহিম আর জাসির, ১২৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে সিরিয়া ভ্রমণ করেন আরো বিস্তৃত পড়াশোনা করার জন্য। শায়েখ ইব্রাহীম সুপরিচিত ছিলেন তার উত্তম আচরণ, বিবেকদর্শী এবং দয়া-দাক্ষিণ্যতা প্রদর্শনের জন্য। সুদীর্ঘ হায়াতে জিন্দেগী অতিবাহিত করা শেষে অতঃপর ৯৭ বছর বয়সে ইন্তকোল করেন। তাঁর অধীনে থেকে শায়েখ আল সাদি কুরআনের তাফসীর, ফিকাহ এবং হাদীস শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।

২। শায়েখ সালিহ ইবনে উসমান কাজী। ১২০০ হিজরিতে উনাজাহতে জন্মগ্রহণ করেন। মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য সে দেশে ভ্রমণ করেন। সেখানে শায়েখ আল সাদী তাওহীদ, তাফসীর, ফিকাহ, উসুলে ফিকাহ এবং আরবী শাস্ত্র সম্পর্কে ব্যুৎপত্তি জ্ঞান অর্জন করেন।

৩। শায়েখ আলি ইবনে নাসির আল ওয়াদি, প্রথমে উনাজাহ এবং পরে রিয়াদে পড়াশোনা করেন এবং তারপর ভারতে ভ্রমণ করেন হাদীস বেত্তাদের কাছ থেকে হাদীস অধ্যয়ন করার জন্য। সেখানে শায়েখ আল সাদী তাফসীর বিষয়েও জ্ঞান অর্জন করেন।

৪। শায়েখ আব্দ আল্লাহ্ ইবনে ঈদ আল হারবি, ১২৪৯ হিজরিতে উনাজাহ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। জ্ঞান অন্বষেণরে প্রবল নেশায় হিজাজ এবং মিশরে গমন করেন। এই আলেমে দ্বীনের কাছে শায়েখ আল সাদী ফিকহ, উসুলে ফিকহ এবং আরবী ভাষায় বিস্তর জ্ঞান অর্জন করেন।

শায়েখ আল সাদী তাঁর ইবাদত, চারিত্রিক মাধুর্যতা, অন্ধত্ব-কুসংস্কার থেকে সংযমী থাকার কারণে বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। শায়েখ সালিহ ইবনে আব্দ আল আজীজ আল উসমান তার সম্পর্কে মন্তব্য করেন এভাবে: “মরহুম ছিলেন খুবই ব্যতিক্রমধর্মী একজন যুবক এবং বৃদ্ধদের সাথে ছিল তাঁর চমৎকার বিনম্র সম্পর্ক। তিনি ছিলেন একাধারে ইবাদতকারী, সংযমী, সৎ, ফকীহ, মুহাদ্দীস, বক্তা, খতীব, ভাষাবিদ এবং গ্রন্থকার। ” শায়েখ আব্দুল বিন বায এম মহান ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে বলেন: ‘ফিকহের প্রতি তার ছিল বিশেষ অনুরাগ, বিতর্কের বিষয়গুলোতে ছিল ব্যাপক আগ্রহ, প্রবণতা ছিল প্রমাণ সমেত সবচাইতে বিশুদ্ধ মতটিই গ্রহণ করা। প্রয়োজনীয় বা উপকারী নয়, এমন বিষয়ে কদাচিতই কথা বলতেন তিনি। মক্কা এবং মদীনায় তাঁর সাথে একাধিক অনুষ্ঠানে বসার সুযোগ হয়েছিল। জ্ঞানের বিষয়ে কথা বলা ছাড়া বলা যায় তিনি খুব স্বল্পবাসীই ছিলেন। ’

তিনি ছিলেন সদয় এবং চমৎকার চরিত্রের অধিকারী। যারা তার বই পড়বে তারা উপলব্দি করতে পারবে তাঁর গুণ, জ্ঞান এবং প্রমাণের সহ প্রাঞ্জল আলোচনার বিষয়টি। আল্লাহ তাঁর উপর রহমতের বারিধারা বর্ষণ করুন।

২৩ বছর বয়স থেকে মৃতু অবধি শায়েখ নিবেদিত ছিলেন শিক্ষাদান, মানুষ গড়ার কাজে। এই সময়ে তিনি ত্রিশটিরও বেশি বই লিখেন। এগুলোর মধ্যে অন্যতম:

  • তাফসীর আল কারীম আর রাহমান ফি তাফসীর কালাম আল মান্নানঃ কুরআনের একটি সংক্ষিপ্ত তাফসীর; এর শব্দ চয়ন সাধারণ, কিন্তু মর্মার্থ অত্যন্ত গভীর।
  • আত তানবীহাত আল লাতিফা ফি মা ইহতাওয়াত আলাহি আকিদাহ আল ওয়াসিতিয়াহঃ মুসলিম বিশ্বাসের উপর ইমাম ইবনে তাইমিয়ার গবেষণালব্দ আলোচনা গ্রন্থের উপর একটি সংক্ষিপ্ত মতামত।
  • মানহাজ আস সালিকিন ওয়াত তাওদিহ আল ফিকহ ফিদ্দীন (পথযাত্রীদের নিয়ম কানুন এবং ধর্মীয় আইনের ব্যাখ্যা), হাম্বলী ফিকাহের একটি সারসংকলন, যদিও অন্যান্য ফিকহ স্কুলের কাছ থেকে নেওয়া কিছু মতামতের বিষয়ে শায়েখের মতটাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে তাদের প্রমাণের দৃঢ়তার কারণে।
  • ইরশাদ উল আল বাসাইর ওয়াল আলবাব লি নায়াল আল ফিকহ (অন্তরদৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতি দিক নির্দেশনা) এবং আইনের অধিগমনের জন্য বোঝাপড়া), গদ্য আকারে লেখা যার প্রতিটি লাইনে একটি সংক্ষিপ্ত নোট দেওয়া আছে।
  • রিসালাহ ফিল কাওয়াইদ আল ফিকিয়াহ (আইন শাস্ত্রের বাণী সম্পর্কিত গবেষণালব্দ আলোচনা গ্রন্থ) যা গদ্য আকারে লিখা, প্রতিটি লাইনে একটি সংক্ষিপ্ত নোট আছে।
  • বাহজাতু কুলুব আল বাহরার (ন্যায়নিষ্ঠদের হৃদয়ের জন্য আনন্দ) ৯৯ টি হাদীসের উৎকৃষ্ট ব্যাখ্যা। যা বিশ্বাস, আচরণ, আইন এবং সামাজিক কার্যক্রম র্সম্পকতি।
  • আল ওয়াসিল আল মুফিদাহ লিল হায়াত আস সায়্যিদাহ (সুখী জীবনে উপকারী উপায় সমূহ), যেখানে এমনসব পন্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে মানুষকে সহযোগিতা করে।

শায়েখ আব্দ আল রহমান সাদী ২৩ জমাদিউল আখির বৃহস্পতিবার, ১৩৭৬ হিজরিতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে সকাল হওয়ার পূর্বেই ইন্তকোল করেন। আল্লাহ্ তাকে উত্তম প্রতিদানে ধন্য করুন। মর্যাদা দিন সত্যবাদীদের সর্বোচ্চ অবস্থানে।

চলবে…….