উমার সিরিজঃ ইসলামের অত্যুজ্জ্বল ইতিহাসের ধারাবর্ণনা

14029

আল্হামদুলিল্লাহ। আল্লাহর অশেষ মেহেরবাণীতে আমরা উমার সিরিজের বাংলা সাবটাইটেলের কাজ শেষ করতে পেরেছি। আমাদের মত কতিপয় গুনাহগার মানুষের দ্বারা আল্লাহ এই খেদমত করাবেন সেটা একমাত্র আপনাদের দোয়া আর মহান রব্বুল আ’লামীনের রহমতেই সম্ভব হয়েছে। যদিও অনেক প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা ছিল যা আমাদেরই অযোগ্যতা। যাই হোক, উমার সিরিজের কাজ করতে গিয়ে রাসূলুল্লাহর (সাঃ) সীরাতের সুবিশাল বৃক্ষে পদচারণা আমাদের পুলকিত করেছে। কখনও অঝোর ধারায় কেঁদেছি বেদনার্ত হৃদয়ে আবার কখনও চোখে প্রবাহিত হয়েছে আনন্দাশ্রু। আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাঃ), বিলাল ইবনে রাবাহ (রাঃ), আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ), আব্দুল্লাহ ইবনে সুহাইল (রাঃ), সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) সহ ইসলামের প্রথম যুগের সাহাবীদের পাহাড়ম ত্যাগ ইসলামের সুবিশাল বৃক্ষের মূলে পানি সিঞ্চন করে।

মক্কায় ইসলামের প্রাথমিক সময়ে গুটিকয়েক সাহাবীর দাওয়াতের বিপরীতে আবু জাহেল, উতবা, শাইবা, মুগীরা, উমাইয়্যাদের বিভৎস নির্যাতন আমাদের হৃদয়, চোখকে স্থির থাকতে দেয়নি। হযরত বিলাল (রাঃ), আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাঃ), হযরত খাব্বাব (রাঃ) দের উপর যে বিভীষিকাময় নির্যাতন চলেছে তার উপমা ইতিহাসে বিরল। এমন মহান ত্যাগ-তিতিক্ষা যে উম্মাহর রয়েছে, তাদেরকে পৃথিবীর কোন পরাশক্তিই পরাজিত করতে পারেনি, পারেনা, পারবে না, ইনশাআল্লাহ।

ইসলাম এসেছিলো মানুষের মিথ্যা অহংকার, গোত্রপ্রীতি, বিদ্বেষ, হানাহানি, রক্তারক্তির ইতিহাসকে ন্যায়ভিত্তিক সমাজে প্রতিস্থাপনের মহান মিশনকে সামনে নিয়ে যেখানে একমাত্র আল্লাহর বিধান হবে সকল কিছুর মূল। যার ফলশ্রুতিতে একটি জাহেলী সমাজব্যবস্থা পরিবর্তিত হয়ে ন্যায়বিচারপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়। যে রাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনায় একে একে সিরিয়া, পারস্য, রোমান, ইরাক, ইয়েমেন, ফিলিস্তিনসহ দিগ-দিগন্তে ইসলামের সুমহান বাণী কল্যানভিত্তিক রাষ্ট্রের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করে দেয়।

ইসলামের বিধানসমূহ বিশেষ করে মৌলিক দাবীগুলো পালন করা অবশ্য কর্তব্য। আর তাই রাসূলুল্লাহর (সাঃ) এর ওফাতের পর যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন ইসলামের প্রথম খলীফা হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)।

ইসলামের ইতিহাসে হুদাইবিয়ার সন্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে আছে যাকে আল্লাহ তায়ালা ‘ফাতহুম মুবীন’ বা সুস্পষ্ট বিজয় বলে আখ্যায়িত করেছেন। এ সময় জাহেলিয়াত ইসলামের কাছে সরাসরি পরাজয় বরণ করে আর নির্জ্জভাবে কাফেররা এ সন্ধি বাতিলের আবেদন করে।

বদর, উহুদ, খন্দকসহ বহু যুদ্ধে বিজয় অর্জন যেমন একদিকে আল্লাহর অশেষ রহমতের ফলশ্রুতি আবার রাসূল (সাঃ) ও তাঁর সাহাবাদের ঈমানের দৃঢ়তা এবং বিশাল যোগ্যতার প্রমাণ। হযরত হামজা (রাঃ), ইযরত খালিদ ইবনে ওয়ালিদ(রাঃ), হযরত আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রাঃ), হযরত সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) দের মত বীরপুরুষ যে জাতির নেতৃত্বে ছিল তাদের স্বাভাবিক ফলশ্রুতি যে সাফল্যে পরিনত হবে যেটা খুবই স্বাভাবিক বলে মনে করি।

হযরত উমার (রাঃ) এর শাসনকাল ইসলামের কল্যানভিক্তিক রাষ্ট্রের বাস্তবায়নের প্রমান। কঠোরতা আর কোমলতার অসাধারণ মিশ্রণ যাকে সকলের কাছে অত্যাধিক জনপ্রিয় করে তুলেছিল। বিভিন্ন রাজ্যের পরাজিত রাজ্যপ্রধানরা অবাক হয়েছে কিভাবে একজন মানুষের পক্ষে এতটা দুরদর্শী আর জনপ্রিয় হওয়া সম্ভব, যা তাদেরকে ইসলামের মহানুভবতা আর সাধারণ জীবনের প্রতি আকৃষ্ট করেছে। ফলে তাওহীদের ছায়াতলে আসতে তারা খুব বেশি দেরি করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ইসলামের মৌলিক বিধান পালন আর আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল মানুষগুলোকে অসাধারণ করে তোলে।

আজকেও যদি আল-কোরআনকে বুকে নিয়ে জীবন চলা যায়, যদি রাসূলের (সাঃ) সুন্নাত থেকে দ্বিধাহীন চিত্তে দিক-নির্দেশনা নেয়া যায়, তাহলে এই সময়েও আবু বকর, হামজা, উমার, উসমান, আলীর যোগ্য উত্তরসূরী তৈরী হওয়া সম্ভব। আমরা দোয়া করি, আল্লাহ বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে থেকেও ইসলামের যোগ্য উত্তরসূরী বের করে দিন যাদের জীবন হবে খুবই সাধারণ কিন্তু কাজগুলো হবে ইসলামের গুণে গুনান্বিত, মহিমান্বিত, অসাধারণ। তবেই বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর যে দাবী তা পূরণ করা সম্ভব হবে। আল্লাহ আমাদের সকলকে তার দ্বীনের খেদমতের জন্য কবুল করে নিন। আমীন।

সমগ্র পর্ব একত্রে দেখুন এখানে

ডাউনলোড লিংক

মা’আস-সালাম,
ডিরেক্টর,
উম্মাহ রিসোর্স সেন্টার